সাস্থ্যসম্মত খাবার মানেই সুস্থ্য শরীর। তাই খাবার ভালতো শরীর ভাল। সকালের নাস্তা আমরা অনেকেই করি না। এতে করে আমাদের শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যারা সকালের নাস্তা করেন না তাদের স্কুলে মনযোগ কমে যায়, লেখাপড়ার গুণগত মান ভাল হয় না। তাই শুধু শারীরিক সুস্থ্যতার জন্যই নয়, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে কার্যক্ষমতা বাড়াতে অবশ্যই সকালের নাস্তা করা উচিত। সকালের নাস্তার উপযুক্ত সময় সকাল ৮-৯ টা। সারাদিনের খাবারের তুলনায় সকালের নাস্তা বেশি খাওয়া উচিত। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হঠাত করে যা খুশি তাই খেলে ওজন বৃদ্ধি পায়। তাই সকালের নাস্তা খুবই জরুরি। সকালের নাস্তাকে গুরুত্বহীন ভাবা ঠিক নয়। কারণ এটি আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, বিপাকে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজ স্বাভাবিক হয়। সকালের নাস্তা ঠিক মত করলে আমাদের শরীর সুস্থ্য থাকে ও শরীরের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অন্যান্য খাবারের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে। এই সু-সাস্থ্যের জন্য সকালের সঠিকভাবে এবং সঠিক সময়ে করা উচিত। সকালের নাস্তার উপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এখন আপনাদেরকে আমি সাস্থ্যসম্মত কয়েকটি খাবারের কথা বলব, যে খাবার গুলো আপনারা সকালে নাস্তা হিসাবে খেতে পারেন।
১। ডিমঃ ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন ও মিনারেলস। তাই প্রতিদিন সকালের নাস্তায় ডিম রাখা উচিত। পূর্ণবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২ টি ডিম ই যথেষ্ট। যাদের সাস্থ্য ভাল তারা ডিমের কুসুম এড়িয়ে যেতে পারেন।
২। সবজি খিচুড়ি ঃ যারা ভারি খাবার খেতে পছন্দ করেন তারা সবজি খিচুড়ি খেতে পারেন। এটি সাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী এবং শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি যোগায়। সবজি খিচুড়ি তৈরীর ক্ষেত্রে চালের পরিমাণ কম দিয়ে সবজির পরিমাণ বেশি দিয়ে রান্না করবেন। সবজি হিসাবে,মিষ্টি লাউ, পটল,আলু, পেঁপে, গাজর, বরবটি, শসা ইত্যাদি দিতে পারেন।
৩। রুটিঃ যারা ভারি খাবার খেতে চান না,তারা সকালের নাস্তা হিসাবে আটার রুটি খেতে পারেন। আটার রুটির সাথে সবজি ভাজি, ডিম খেতে পারেন।
৪। দইঃ দই দেহের জন্য অনেকবেশি কার্যকর, এতে আছে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের গঠনে কাজ করে।অনেকেই দই দিয়ে সকালের নাস্তা করে থাকেন। এতে করে শরীরে কাজ করার প্রচুর এনার্জি পাওয়া যায় এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
৫। ফল-মূলঃ ফল-মূল শরীরের জন্য খুবই উপকারী।তাই সকালের নাস্তায় ফল-মূল রাখতে পারেন। যেমন, কলা, আপেল, আংগুর,কমলা, বেদেনা এবং মৌসুমি ফল-মূল দিয়েও নাস্তা করা যায়। আপনারা চাইলে সব ফল-মূল একসাথে সালাদের মত বানিয়েও খেতে পারেন।সকালের নাস্তায় সবচেয়ে সাস্থ্যসম্মত হল ফল-মূল।
৬। কাজুবাদাম ঃ কাজুবাদাম শরির থেকে কোলেস্টেরল দূর করে।প্রতিদিন সকালে কাজুবাদাম খেতে পারেন।
৭। কলাঃ সকালে নাস্তা হিসাবে কলা খেতে পারেন।কলা শরীরে অনেক শক্তি সঞ্চয় করে থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম এবং এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।
৮। গ্রীন টিঃ এটি ডায়াবেটিকস ও ক্যান্সারজনিত রোগের ঝুঁকি কমায়।এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট।তাই সকালের নাস্তায় গ্রীন টি রাখতে পারেন।।
