অতি পরিচিত একটি মসলা আদা।আদা আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি খাদ্য উপাদান। আদা মসলায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর রয়েছে হাজারো গুনাগুণ। আদাতে আছে ক্রোমিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, পটাসিয়াম ও লবণ ইত্যাদি। আদা zingiberaceae গোত্রের ঔষধ। যার ইংরেজিনাম Zingier। আদা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় এক প্রজাতি। এর Rhizome, বাইরের দিকে হলুদ, ভিতরের দিকে হালকা সবুজ-হলুদ। এর পাতাগুলো প্রায় ১৫ সে.মি. লম্বা। বাংলাদেশে প্রায় ৪৯৪০৫ মেট্রিকটন আদা উৎপাদন হয়। আদা উঁচু ও পাহাড়ি জমিতে ভাল হয়। আদা টাংগাইল, রংপুর, দিনাজপুর ও রাংগামাটিতে অধিক পরিমানে চাষ হয়। এটি জ্বর জ্বর ভাব, গলা ব্যাথা, সর্দি-কাশি ও মাথা ব্যাথা দূর করতে সহায়তা করে। তাছাড়া মাইগ্রেনের ব্যাথা ও কিডনিজনিত সমস্যাও দূর করে। নিয়মিত আদা খেলে অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে।

১০০ গ্রাম আদায় আছে----
এনার্জি ঃ ৮০ ক্যালরি
কার্বোহাইড্রেট ঃ ১৭ গ্রাম
ফ্যাট ঃ ০.৭৫ গ্রাম
পটাসিয়াম ঃ ৪১৫ মিলি গ্রাম
ফসফরাস ঃ ৩৪ মিলি গ্রাম
এবার দেখে নেই আদার কি কি গুনাগুণ ও উপকারীতা রয়েছে-

⏩সর্দি-কাশি জনিত সমস্যায় আদার রসের সাথে সামান্য পরিমাণ মধু মিশিয়ে পান করলে তা থেকে উপশম পাওয়া যাবে।
⏩প্রতিদিন এক ইঞ্চি পরিমাণ আদা খেলে সাইনাস এর সমস্যা দূর হয়।
⏩ত্বকের বয়সের ছাপ দূর করতে প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ আদা খাওয়ার চেষ্টা করুন। আদায় রয়েছে অ্যান্টিজেন নামক উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দেহের ট্রফিন দূর করে এবং দেহের রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি করে।
⏩ মেয়েদের পিরিয়ডের সময় পেটে ক্রাম্পের সমস্যায় প্রায় নাজেহাল হতে হয়। এইক্ষেত্রে আদা থেঁতো করে সামান্য নূন দিয়ে খেতে পারেন।
⏩ প্রতিদিন এক কাপ আদা চা পান করুন। এতে আপনার হজম কমা,পেট ফাঁপা এবং পেটের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাবেন।
⏩ আদা ক্যান্সার ও জরায়ুর ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।
⏩ আদার রস দাতের মাড়িকে শক্তকরে এবং দাতের ফাকের জীবাণু ধ্বংস করে।
⏩ চুলের গোড়া মজবুত করতে আদা ব্যবহার হয়ে থাকে। আদায় থাকা ভিটামিন এ,বি,সি,চুল পড়া রোধ করে।
⏩হাজার বছর ধরে ঠান্ডা এবং কাশি নিরাময়ে আদা ব্যবহার হচ্ছে। ১০।
রুচি বৃদ্ধিতেও আদা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
⏩ক্ষুধা মন্দাভাব বা খেতে ভাল লাগছে না, এইক্ষেত্রে আদা চিবিয়ে খেতে পারেন।
⏩ প্রাকৃতিক এন্টিহিস্টামিন এবং এন্টিবায়োটিক উপাদানে ভরপুর আদা রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
⏩ যেকোনো ব্যাথা দূর করতে আক্রান্ত স্থানে আদার রস লাগালে তা থেকে উপশম পাওয়া যায়।
⏩ পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ও স্পারম সংখ্যা বৃদ্ধি করতে আদার সাথে ডিম খাওয়ার অভ্যাস করুন।
⏩ ওজন কমাতে সাহায্য করে।টিস্যু বেশি এনার্জি ব্যবহার করায় বেশি এনার্জি বার্ন হয়।
⏩ আদা হার্টের সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
⏩আদা স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
⏩ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদার রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে রাখে। পেশিকোষ গুলোতে গ্লুকোজের ধারণ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ইনসুলিন চলাচল ঠিক রাখে।