পাচারকারীদের নজর রোহিঙ্গা শিশুদের উপর

TheRocky | November 08, 2017 | |


ঝড়ের মৌসুম শেষ হয়েছে বটে কিন্তু এখনো স্বস্তির বাতাস আসেনি বেশ কিছু রোহিঙ্গাদের মধ্যে। এমনই একজন নূর আলম। দুই দিন ধরে খুঁজে খুঁজেও নিজের ছয় বছর বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে পাচ্ছেন না তিনি।

তিনটি অস্বাস্থ্যকর টয়লেটের পাশেই ঘর ছিলো ফাতেমাদের। দুই দিন আগে ঘরের পাশেই খেলা করতে যায় সে এরপর আর ফিরে আসেনি।

আশেপাশের কেউ তার কোনো খোঁজও জানে না। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনকে আলম বলেন, খুব চিন্তা হচ্ছে। ওকে হয়তো কেউ বিক্রি করে দিয়েছে বা অন্য কোথাও নিয়ে চলে গেছে। লোকজন তো বলছে এমনটা এখানে প্রতিনিয়ত ঘটছেই।

তার ভয়টা নেহাত অমূলক নয়। জাতিসংঘের তথ্য বলছে, এই অঞ্চলে পাচারকারীদের দৌরাত্ম্য আগে থেকেই ছিলো। নতুন লাখ লাখ রোহিঙ্গা আসায় তাদের অপতৎপরতা আরো বেড়েছে।

মিয়ানমারে জাতিগত নিধনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ১০ জনে ৬ জনই শিশু। সেখানে থাকা হাজার হাজার রোহিঙ্গা শিশু বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখান থেকে চুরি করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে এসে গৃহকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টাও করছে পাচারকারীরা।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেড অব চাইল্ড প্রোটেকশন জিন লিবি বলেন, এটা খুবই বড় ঝুঁকি। ছোট্ট মেয়েরা এই ধরনের পাচারের শিকার হতে পারে, পরে বড় কোনো একটি শহরে চলে যেতে পারে।

আরেক রোহিঙ্গা নাজির আহমেদ দুই মাস আগে এই এলাকায় একটি তথ্য সেন্টার স্থাপন করেন। তিনি জানান, এরই মধ্যে ১৮০০ শিশুকে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে এই সেন্টার।নাজির আহমেদ

গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম ছাড়া এই সেন্টারের যন্ত্রপাতি হচ্ছে একটি কাঠের টেবিল আর একটি বড় মাউথপিস। কিন্তু সূর্য উঠলেই প্রিয়জনের খোঁজে আসা মানুষের ভিড় লেগে যায় তার কাছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা এখানে নতুন। তাই তাদের ঘর থেকে দূরে গেলেই তারা সহজে হারিয়ে যায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এর আগেও পাচারকারীর দৌরাত্ম্য দেখেছেন নাজির। তিনি জানান, এক রোহিঙ্গা তার শিশুকে রেখে পাশের দোকানেই কিছু কিনছিলো, তখনই পাচারকারী সন্তানটিকে নিয়ে যেতে চায়। এসময় তার আত্মীয় এসে তাকে উদ্ধার করে। এসব দেখেই নাজির সবাইকে সচেতন শুরু করতে থাকে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু পাচারকারীরাই সন্তান ছিনিয়ে নিচ্ছে তেমনটা নয়। কিছু কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানকে শিশুশ্রম যেমন কক্সবাজারে মাছ শুকানোর কাজ করার জন্য বিক্রিও করে দিচ্ছে বলে জানায় ইউনিসেফ। মাত্র ১৮০০০ টাকায় তারা কিনে নিচ্ছে শিশুদের। যে ঋণ শিশুটিকে নয় মাসের মাছ ধরার মৌসুমে কাজ করে পূরণ করে দিতে হবে।

সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ইউনিসেফ এই পরিমাণ টাকা পিতামাতাকে দিচ্ছে। সঙ্গে কিছু ব্যবসার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে। কিন্তু টাকা কম থাকায় সেটাও খুব বেশি পরিমাণে সম্ভব হচ্ছে না
Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More

Search