এছাড়াও কয়েকটি নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মুরগির ডিম হৃদযন্ত্রের জন্য ভাল তো বটেই, একইসঙ্গে তা ওজন কমানোর জন্যেও সহায়ক। এখনকার মুরগির ডিমে ভিটামিন ডি’র পরিমাণ অতীতের ধারণার চেয়ে শতকরা ৭০ ভাগ বেশি। ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশে রয়েছে ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা শরীরের জন্য অনেক বেশি উপকারি। তাই গবেষকরা প্রত্যহ সকালের নাস্তায় ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সুস্থ থাকতে ডিম খাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাই এবার অথর্সূচকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেয়া হলো ডিমের ৫ পদ:

উপকরণ
এক চা চামচ তেল, একটা ডিম, এক চা চামচ আদা বাটা, ২টা লবঙ্গ ও রসুন একসাথে পেষ্ট, এক চা লাল মরিচ গুড়া, এক বাটি ভাত, লবণ পরিমাণমত, গোল মরিচ, এক চা চামচ সয়া সস, এক চা চামচ ধনে গুড়া।
প্রণালি
প্রথমে একটা কড়াই-এ তেল দিয়ে এর মধ্যে ডিম ছেড়ে দিন। এরপর এতে আদা, রসুন ও লাল মরিচের গুড়া ফেলে দিন। মিনিট খানেক নাড়ার পর এর মাঝে ভাত ঢেলে দিন এবং ভালভাবে এর সাথে মিশিয়ে নিন। পরে লবণ, গোলমরিচ ও সয়া সস এতে দিয়ে দিন। সবশেষে ধনে গুড়া দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। তবে মজাদার এ খাবারটি রান্না করতে সময় লাগে মাত্র ১৫ মিনিট। কাজেই দেরি নয়, ঝটপট সেরে ফেলুন এ মজাদার রান্নাটি।

উপকরণ
২ কাপ বাসুমতি চাল, ৬ টি বড় ডিম, একটি পেঁয়াজ কুচি, ১০ টি কাঁচা মরিচ ২ ভাগে বিভক্ত, একটি তেজপাতা, ৪টি লবঙ্গ, আধা চা চামচ মরিচের গুড়া, একটা দারুচিনি, এক চা চামচ আদা ও রসুন বাটা, এক চা চামচ পোলাও-এর মসলা, দুই টেবিল চা চামচ তেল, লবণ পরিমাণমত।
প্রণালি
প্রথমে কড়াই-এ তেল দিয়ে ছয়টি ডিম ভেজে নিন। এরপর বড় কড়াই-এ তেল গরম করে সব মসলা একসাথে যোগ করুন। কয়েক সেকেন্ড পর এর মধ্যে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা-রসুন বাটা দিন। এগুলো লাল রং না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। এরপর দুটো ডিম ভেঙ্গে এর মধ্যে দিন।পরে চাল দিয়ে মিনিট খানেক ভেজে নিয়ে এতে লবণ দিন।এরপর সিদ্ধ ডিমগুলো এর মাঝে ছেড়ে দিয়ে চার কাপ পানি দিন। চাল সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা দিয়ে রাখুন। চাল সিদ্ধ হয়ে আসলে পোলাও-এর মসলা , লেবুর রস এর সাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। আবার পানি ফুটানো পর্যন্ত ঢাকা দিয়ে রাখুন। ভাত হয়ে আসলে এর উপর ধনে পাতা ছিটিয়ে দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। এরপর গরম গরম পরিবেশন করুন।

টমেটো-ডিমের তরকারি
উপকরণ
এক টিবিল চা চামচ তেল, ২টি পেঁয়াজ কুচি, ৮-১০ টি টমেটো, ২ চা চামচ জিরার গুড়া, এক চা চামচ হলুদ, লবণ পরিমাণমত, ৫ টি ডিম, ৫-৬ টি কাঁচা মরিচ, ২ চা চামচ ধনে পাতা কুচি।
প্রণালি
কড়াই-এ তেল নিয়ে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে বাদামি না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। তারপর এতে টমেটো কুচি, জিরার গুড়া, হলুদ ও লবণ মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। অল্প কিছুক্ষণ পর এর মধ্যে ৫-৬ টি ডিম দিয়ে এর উপর কাঁচা মরিচের গুড়া দিন। একটু পরেই নামিয়ে ফেলুন। তৈরি হয়ে গেল টমেটো-ডিমের তরকারি। রুটি বা ভাতের সাথেই গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার এ খাবারটি।

এগ চ্যাট
উপকরণ
৩টি সিদ্ধ ডিম, এক টেবিল চামচ টমেটো সস, এক চা চামচ টমেটো কাঁচা মরিচ সস, ৩ চা চামচ তেতুঁলের নির্যাস, এক চা চামচ লেবুর রস, এক চা চামচ জিরার গুড়া, লবণ পরিমাণমত, একটা কাঁচা মরিচ, একটা পেয়াজ কুঁচি, ২-৩ টেবিল বুন্দি।
প্রণালি
একটি বাটিতে টমেটো সস, টমেটো কাঁচা মরিচ সস তেতুলের নির্যাস, লেবুর রস, জিরার গুড়া, কাচা মরিচ এবং লবণ একসাথে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর একটা থালায় সিদ্ধ ডিমগুলো নিয়ে দুভাগে ভাগ করে এর উপর চাটনিগুলো ছিটিয়ে দিন। পরে লাল করে ভেজে নিয়া পেঁয়াজ কুচি, গরম মসলা ও বুন্দি ডিমের উপর দিয়ে নামিয়ে ফেলুন। ব্যস, ঝটপট তৈরি হয়ে গেল এগ চ্যাট। এরপর নিজের পছন্দ মতো তা পরিবেশন করুন।

ডিমের মুত্তা এভিয়াল
উপকরণ
৩ টেবিল চামচ তেল, ৪টি সিদ্ধ ডিম, ২ টেবিল চামচ নারিকেল কুচি, এক চা চামচ জিরার গুড়া, ২ পড রসুন, ৪টি কাঁচা মরিচ, ২টা আলু টুকরো টুকরো করে কাটা, ৬ টেবিল চামচ তেতুলের পেস্ট, চা চামচের এক চতুর্থাংশ হলুদের গুড়া, আধা চা চামচ লাল মরিচের গুড়া, এক চা চামচের তিন চর্তুথাংশ সরিষা বাটা, আধা চা চামচ ডাল, ৫-৬ টি তেজপাতা, লবণ পরিমাণমত।
প্রণালি
একটি কড়াই-এ তিন টেবিল চামচ তেতুলের পেস্টের সাথে দুই কাপ পানি মিশিয়ে এর মধ্যে আলু সিদ্ধ করুন। নারিকেল, রসুন, জিরার গুড়া, কাঁচা মরিচ ও হলুদ দিয়ে একসাথে মাখিয়ে নিন। এরপর এ পেস্টটিতে পানি দিয়ে এর মধ্যে গরম মসলা দিন।
এরপর কড়াই-এ দুই টেবিল চামচ তেল দিয়ে এর মধ্যে পুরো পেস্টটা যোগ করে নাড়তে থাকি। এর মিনিট খানেক পর তেতুলের পেস্ট, লাল মরিচের গুড়া ও লবণ মিশিয়ে নিন। তারপর আলু দিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে নাড়তে থাকুন। এর মধ্যে ডিমগুলো অর্ধেক করে এর মধ্যে ছেড়ে দিন। এবার ঢাকনা দিয়ে পাঁচ মিনিট রাখুন। অন্য কড়াই-এ এক টেবিল চামচ তেলে সরিষা বাটা, ডাল ও তেজপাতা ভেজে নেই। এরপর সবগুলো একসাথে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে নামিয়ে ফেলি। ব্যস তৈরি হয়ে গেল ডিমের মুত্তা এভিয়াল। এবার গরম গরম পরিবেশন করুন।